পোষ্য কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অনশন ইবি শিক্ষার্থীর, যা বলছে কর্তৃপক্ষ

ইবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ১০:০৪ পিএম


ইবিতে শিক্ষার্থীর অনশন, যা বলছে কর্তৃপক্ষ
অনশনরত ইবি শিক্ষার্থী বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। ছবি: আরটিভি

সকল ধরনের ফি কমানো ও পোষ্য কোটা বাতিলসহ চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনশনে বসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ। তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের ইবি শাখা যুগ্ম সদস্য সচিব।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন এই শিক্ষার্থী। 

এসময় দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। সেই সাথে তার চার দফা দাবি সংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন।

তার দাবিগুলো হল: বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত পোষ্য কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ বন্ধ করা, সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক ফি কমানো।

অনশনরত বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ বলেন, প্রথমে কোটা বাতিলের দাবিতে জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট শুরু হয়। দাবি আদায় না হওয়ায় পরবর্তীতে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এতে প্রায় ১৪০০-এর অধিক ভাই-বোন শহিদ হয়েছিল এবং ২২ হাজারের বেশি ভাই-বোন আহত হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করি। কিন্তু তার পরবর্তী নকিব নসরুল্লাহ (তৎকালীন ভিসি) প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সিন্ডিকেট তিনি ভাঙতে পারেননি। 

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কাছে দাবি এ পোষ্য কোটা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং অযৌক্তিক ফি-গুলো কমাতে হবে। এছাড়াও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে হয়রানি করা সহ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বাপ-মা তুলে গালিগালাজ করে, এটাও যেন না করা হয়। সার্টিফিকেট উত্তলনের সময়কার হয়রানিগুলো বন্ধ করতে হবে। এ চার দফা দাবি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমি অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

পোষ্য কোটা বাতিলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু প্রজ্ঞাপন জারি করে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবার বাতিল করা সম্ভব না। যদি প্রশাসন চায় আগামী বার থেকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সার্টিফিকেট উত্তোলন জটিলতা নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিউর রহমানের (পিকুল) জানান, “নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ চলমান।”

অনশনের বিষয়টি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “শুনেছি বাঁধন একা বসে আছে। একাডেমিক সম্পর্কিত দাবি যেহেতু; প্রশাসন ডিল করবে।”

এসময় প্রশাসন ভবন গেটে‌ ‘যোগ্যতার জয় হোক, পশু কোটা রোধ হোক; অযৌক্তিক ভর্তি ফি, বাতিল চাই বাতিল চাই; সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানি, বাতিল চাই-বাতিল চাই’ লেখা যুক্ত ছোট আকারের পোস্টার দেখা যায়।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission